সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
জেলার পাহাড়ী এলাকার ফুল ঝাড়ুর কদর বেড়েছে এখন সারাদেশে। এসব পাহাড়ী ফুল ঝাড়ু যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।
পাহাড়ী ফুল ঝাড়ুর বাজার মূল্য ভালো হওয়াতে এসব ঝাড়ু বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে অনেকে। পাহাড়ী ফুল সংগ্রহ ও ঝাড়ু বানিয়ে বিক্রি করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করছে।
বনরুপা সমতাঘাটের স্থানীয় ফুল ঝাড়ু ব্যবসায়ী নয়ন চাকমা জানান, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে জুম চাষের জন্য পাহাড়ে আগুন দেয়ার আগে ফুল কেটে সংগ্রহ করা হয়। তাদের ভাষ্যমতে, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংগ্রহ করা ফুল শুকানোর পর ঝাড়ু বানিয়ে তা হাট বাজারে বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব পাহাড়ী ফুল ঝাড়ু চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করেন ব্যবসায়ীরা। পাহাড়ী ফুল ঝাড়ু রাঙ্গামাটির রাজস্থলীর বাজার ছাড়াও, ইসলামপুর বাজার, বাঙালহালিয়া বাজারে ফুলঝাড়ু পাইকারীদরে বিক্রি করা হয়। এছাড়া জেলার আরো বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে প্রতি সাপ্তাহিক বাজারে ফুল ঝাড়ুর বিকি-কিনি করা হয়। এসব বাজার থেকে পাইকার ব্যবসায়ীরা ফুল ঝাড়– সংগ্রহ করে তা দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে নিয়ে যায়।
রাজস্থলী উপজেলার মুবাছড়ি এলাকার রতি মোহন তনচংগ্যা বলেন, পাহাড়ের জঙ্গলে উৎপাদিত ফুলের ঝাড়ু সংগ্রহ করে আমরা পাইকারি বান্ডিল ৩০/৪০ টাকা ধরে বিক্রি করি। লোকজনে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করে বিভিন্ন স্থানে মজুদ করে। পরে ট্রাক এবং জীপ গাড়ি দিয়ে এসব ফুল ঝাড়ু দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা।
রাজস্থলী উপজেলার সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে(বাসস) বলেন, প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেয়া পাহাড়ী ফুল ঝাড়ু এক সময় সকলের অপ্রয়োজনীয় মনে হত। কিন্তু বর্তমানে এসব ফুল ঝাড়ুর ব্যবসায়িক কদর থাকায় এবং ফুল ঝাড়ু ভালো দামে বিক্রি হওয়াতে ফুল ঝাড়ুর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।
তিনি জানান, শুধুমাত্র রাজস্থলী উপজেলায় বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকা থেকে এক মৌসুমে প্রায় ২০/৫০ লাখ টাকার ফুল ঝাড়ু বিক্রি হয়। যা দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পাহাড়ী এসব ফুল ঝাড়ু ব্যবসা করে পার্বত্য এলাকায় অনেকে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
রাজস্থলী ছাড়াও রাঙ্গামাটির অন্যান্য উপজেলাগুলো থেকে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে পাহাড়ী ফুল ঝাড়ু।
সম্ভাবনাময় পাহাড়ী ফুল ঝাড়ুর ব্যবসায়ক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া গেলে বেকারত্ব দূরীকরণের পাশাপাশি পাহাড়ের আত্মসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখা যাবে বলে আশা স্থানীয়দের।